ট্রাম্পের ৩০ শতাংশ শুল্ক

পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিত ইইউ ও মেক্সিকোর

মেক্সিকো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আমদানীকৃত পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মেক্সিকো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আমদানীকৃত পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রধান এ বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার পরও বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারায় তিনি এ ঘোষণা দেন। তবে ১ আগস্ট থেকে শুল্ক আরোপের এ ঘোষণা মার্কিন মিত্রদের ক্ষুব্ধ করেছে। বাণিজ্যযুদ্ধের এ পর্যায়ে পাল্টা ব্যবস্থার ইঙ্গিতও দেয় তারা। খবর রয়টার্স।

চিঠির মাধ্যমে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউমকে সর্বশেষ শুল্ক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে চিঠিগুলো প্রকাশ হয়।

ইইউ ও মেক্সিকো উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। এ শুল্ককে অন্যায্য ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছে তারা এবং ১ আগস্টের আগে বড় আকারে বাণিজ্যচুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম নিশ্চিত যে একটি চুক্তি সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় বলেছি, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ঠাণ্ডা মাথায় সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়।’

তবে এও বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার জানি, কোন বিষয়ে মার্কিন সরকারের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব, আর কোনগুলোয় সম্ভব নয়। আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব কখনই আলোচনার বিষয় হতে পারে না।’

সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো ২৩টি বাণিজ্য অংশীদারকে একই ধরনের চিঠি পাঠিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, কানাডা, জাপান ও ব্রাজিল। এসব চিঠিতে ২০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ও তামার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্দেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ইইউ যেন যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি মুক্তবাজার প্রবেশাধিকার দেয়। এর মাধ্যমে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমানো যাবে। প্রতিক্রিয়ায় উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেন, ‘৩০ শতাংশ শুল্ক ট্রান্সআটলান্টিক সরবরাহ চেইনকে ব্যাহত করবে। ফলে উভয় মহাদেশের ব্যবসা, ভোক্তা ও রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইইউ একটি বাণিজ্য চুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবে। তবে ইইউ স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যার মধ্যে প্রয়োজন হলে সুনির্দিষ্ট পাল্টা ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত।’

মেক্সিকোর অর্থনীতি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ শুল্ককে অন্যায্য আচরণ উল্লেখ করেছে এবং এতে তারা একমত নয়।

এদিকে মেক্সিকোর জন্য প্রস্তাবিত শুল্ক হার আরেক শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার কানাডার ৩৫ শতাংশের তুলনায় কম। যদিও উভয় চিঠিতেই ফেন্টানিল মাদক প্রবাহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শুল্ক কম হওয়ার কারণ হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘মেক্সিকো সীমান্ত সুরক্ষায় সহায়তা করেছে, কিন্তু কানাডা যথেষ্ট করেনি।’

মেক্সিকো তার মোট রফতানি পণ্যের ৮০ শতাংশের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায়। মুক্ত বাণিজ্যের ভিত্তিতেই ২০২৩ সালে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ২০২৪ সালে ১৯ হাজার ৭০০ কোটি ইউরোয় পৌঁছে, এখন এ ব্যবধান কমাতে উদ্যোগী হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আরও